‘একজন বক্সারের এক হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় লড়াইয়ের’ অনুভূতি বাটলারের
শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ব্যবধানের কারণ, সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিসহ আরও অনেক বিষয় নিয়ে উজবেকিস্তান ম্যাচে হারের পর কথা বললেন বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলার।

09 Mar 2026, 07:13 PM
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে হারের পর বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলার সংবাদ সম্মেলনে কখনও মেয়েদের প্রশংসায় ভাসালেন, কখনও সমালোচনা করলেন। প্রস্তুতির কমতি, আধুনিক সুবিধার অভাব, প্রযুক্তির ঘাটতির পুরনো ক্ষোভ ঝাড়লেন। এক পর্যায়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববেন, বললেন এমন কথাও। উইমেন’স এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে সোমবার পার্থে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৪-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। টানা তিন হারে ‘বি’ গ্রুপের তলানিতে থেকে আসর শেষ করল দল।
প্রথমবারের মতো উইমেন’স এশিয়ান কাপের আঙিনায় খেলার রোমাঞ্চ সঙ্গী ছিল বাংলাদেশের। প্রতিযোগিতার নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ২-০ এবং তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলের হার মেনে নিয়ে দল তাকিয়ে ছিল উজবেকিস্তান ম্যাচের দিকে। উজ্জীবিত ফুটবল খেললেও ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৪৯তম স্থানে থাকা উজবেকিস্তানের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য কিছু করতে পারেনি ১১২তম স্থানে থাকা বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে শুরুর দিকে এক গোল হজমের পর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ অবশ্য পায় বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণা চাকমা, কোহাতি কিসকু সুযোগ নষ্ট করেন। আক্রমণভাগে তহুরা খাতুনও ছিলেন না কার্যকরী। তবে সব মিলিয়ে সাহসী ফুটবল খেলা মেয়েদের কখনও বাটলার প্রশংসায় ভাসালেন, কখনও সমালোচনাও করলেন।

“মাঝে মাঝে আমরা মনে হয়েছে যে, স্কোরলাইনে আসলে খেলার প্রকৃত প্রতিফলন ছিল না। আমার মনে হয়েছে, ম্যাচে লম্বা সময় আমরা ভালো ফুটবল খেলেছি। কিন্তু আমরা এমন একটি দলের বিপক্ষে খেলছি যারা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে ৬০, ৭০ ধাপ (আসলে ৬৩ ধাপ) উপরে এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী। আমরা অনেক সময় বল দখলে আধিপত্য বিস্তার করেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোল করতে পারিনি। আর যদি আপনি গোল করতে না পারেন, তবে মূলত সেই সব ভালো কাজ বৃথা যায়। তাই কোনো অজুহাত নেই। যা হওয়ার তা হয়েছে।”
“আমি মনে করি গোল খেলা বদলে দেয়। তবে, আমি এখানে বসে এটা-ওটা নিয়ে কান্নাকাটি করতে চাই না। এটি তরুণ খেলোয়াড়দের দল যাদের গড় বয়স ১৯, সাড়ে ১৯ বছর। আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে এবং অনেক কিছু, যেমন পেছনে ফিরে দেখা এবং পরে উপলব্ধি করা। মেয়েদের আরও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলা প্রয়োজন এবং আরও ক্যাম্প করা এবং উচ্চতর পর্যায়ে খেলা প্রয়োজন, যেমন আমরা আজারবাইজানের বিপক্ষে খেলেছি এবং আমরা কিছু সত্যিই খুব কঠিন, উঁচু র্যাঙ্কিংয়ের দলের বিপক্ষে খেলেছি। আর আমাদের এমন দলের বিপক্ষে জেতার কোনো সুযোগ নেই।” এমনটা বলার পর অবশ্য নানা কারণে বাটলার মেনে নিতে পারছেন না দলের ব্যর্থতা। কেননা, গত ডিসেম্বরে আজারবাইজানের বিপক্ষে সবশেষ প্রীতি ম্যাচের পর কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেনি মেয়েরা। চট্টগ্রামের কোরিয়ান ইপিজেডে বিক্ষিপ্তভাবে চলেছে ক্যাম্প। থাইল্যান্ডে নিবিড় প্রস্তুতি ক্যাম্প হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। উজবেকিস্তান ম্যাচের পর পুরনো ক্ষোভ কোচ ঝাড়লেন উপমা টেনে।
“আমরা মাঝে মাঝে সত্যিই ভালো ফুটবল খেলি, কিন্তু পরিস্থিতি যেমন… তারা টিভি ক্যামেরা নিয়ে আসে, তারা ভিডিও সরঞ্জাম নিয়ে আসে। আমাদের কাছে তা নেই, আমাদের কাছে সেই বিলাসিতা নেই। তাই, কখনও কখনও মনে হয় যেন একজন বক্সার এক হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় লড়াই করতে যাচ্ছে। চূড়ান্ত ফলাফলে আমি হতাশ, তবে মেয়েদের জন্য আমার প্রশংসা ছাড়া আর কিছু নেই। তারা অনেক দূর এগিয়েছে।” “যখন আপনি এএফসির স্তরে, এশিয়ান কাপ স্তরে খেলছেন, তখন আপনি আরও ভালো দলের মুখোমুখি হচ্ছেন, যারা শারীরিকভাবে এবং কাঠামোগতভাবে আমাদের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত। আমি মনে করি, এএফসি সত্যিই একটি ভালো ইভেন্ট আয়োজন করেছে। মাঠগুলো চমৎকার ছিল। আর আমাদের একটি মাঠও নেই। বাংলাদেশে আমাদের কোনো নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ মাঠ নেই, এগুলো আমাদের সমস্যা।” ছুটি নিয়ে ইংল্যান্ডে ফিরে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাববেন, এমন কথাও বললেন নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে দুই বছর ধরে বাংলাদেশের নারী ফুটবলের দায়িত্বে থাকা বাটলার।
