শালিসে পাওনা পরিশোধের পরও বিকাশের ভুল তদন্তে গ্রাহকের টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় স্থানীয় শালিসের মাধ্যমে পাওনা পরিশোধ এবং থানায় জিডি প্রত্যাহার করার পরেও, মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশের একতরফা ও ত্রুটিপূর্ণ তদন্তের কারণে এক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে জোরপূর্বক ১১,৯০০ টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে মারাত্মক আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ওই গ্রাহক।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিসি বিল্ডের লেনদেন সংক্রান্ত একটি ভুল বোঝাবুঝির জেরে মোহাম্মাদ মিন্টু আলী নামের এক ব্যক্তি উল্লাপাড়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৯২০, তারিখ: ১৫/০৭/২০২৬) দায়ের করেছিলেন এবং বিকাশ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিকাশ তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টটি স্থায়ীভাবে ব্লক করে দেয়।

পরবর্তীতে গত ০২/০৮/২০২৬ তারিখে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শালিসদারদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের সমঝোতায় বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়। মীমাংসা অনুযায়ী গ্রাহক মোছাঃ আম্বিয়া বেগমের পক্ষ থেকে অভিযোগকারী মিন্টু আলীকে সম্পূর্ণ ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) টাকা নগদ পরিশোধ করা হয় এবং অভিযোগকারী সশরীরে থানায় উপস্থিত হয়ে তাঁর দায়ের করা জিডি ও বিকাশ অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেন। উল্লাপাড়া মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তা ও অভিযোগকারী উভয়েই এই জিডি প্রত্যাহারের বিষয়টি সিল ও স্বাক্ষর দিয়ে নিশ্চিত করেছেন। তবে অভিযোগকারী থানায় ও বিকাশে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করার পূর্বেই, বিকাশ কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার দ্বিতীয় পক্ষের বক্তব্য বা যাচাই-বাছাই ছাড়াই একতরফা তদন্তের ভিত্তিতে ভুক্তভোগী গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অতিরিক্ত ১১,৯০০ টাকা কেটে নিয়ে অভিযোগকারীর অ্যাকাউন্টে জমা দেয়।
ভুক্তভোগী গ্রাহকের অভিযোগ, অভিযোগকারী ব্যক্তি শালিসের মাধ্যমে ইতিমধ্যে তাঁর পাওনা পুরো টাকা নগদে বুঝে পাওয়ার পরও বিকাশের ভুল তদন্তের কারণে অতিরিক্ত টাকা পাওয়ায় দ্বৈত সুবিধা (Double Recovery) লাভ করেছেন। অথচ বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও বিকাশ কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান দিচ্ছে না। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অভিযোগকারী মোহাম্মাদ মিন্টু আলী একটি লিখিত অনাপত্তিপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, তিনি শালিসে তাঁর পাওনা টাকা সম্পূর্ণ বুঝে পেয়েছেন এবং বিকাশের কেটে নেওয়া ১১,৯০০ টাকার ওপর তাঁর আর কোনো দাবি বা অধিকার নেই।


এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার বিকাশ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ত্রুটিপূর্ণ তদন্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে অন্যায়ভাবে কেটে নেওয়া ১১,৯০০ টাকা রিফান্ড করার দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় এ বিষয়ে সমস্ত প্রমাণাদিসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি এন্ড কাস্টমার সার্ভিস বিভাগে (FICSD) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
